রাজশাহীতে ছাত্রদের মেস ছাড়তে বাধ্য করছেন মালিকরা

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 
    Published: 2018-07-26 12:51:19 BdST
bdnews24

ভোটের আগে রাজশাহী সিটির মেসগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিকরা জোর করে বের দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের দোহাই দিয়ে ভোটার নন এমন শিক্ষার্থীদের মেস খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কার্যত ছাত্রাবাস ত্যাগের কোনো নির্দেশনা নেই।
৩০ জুলাই রাজশাহীসহ তিন সিটি করপোরেশনের ভোট সামনে রেখে ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাঠানো নির্দেশনায় এলাকার বাসিন্দা নন এমন ব্যক্তিদের ২৭ জুলাই রাত ১২টার আগে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১১টি ও ছাত্রীদের ছয়টি আবাসিক হল রয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে নয় হাজারের মতো হলগুলোতে জায়গা পাচ্ছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিভিন্ন মেসে থাকছেন।
জোর করে মেস থেকে বের করে দেওয়ার মালিকদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়া এসব শিক্ষার্থী।
এমনই এক ভোক্তভোগী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন; থাকছেন নগরীর ধরমপুর আজগর আলী ছাত্রাবাসে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মেস মালিক আমাদেরকে নোটিস দিয়েছে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে মেস ছেড়ে দিতে। আমরা যদি ২৬ তারিখ মেস ছেড়ে চলে যাই তবে আবার ১ তারিখে রাজশাহী আসতে হবে।
“অনেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়া আসা করতে ২ দিনেরও বেশি সময় লাগে। আবার ১৫ আগস্ট থেকে ঈদু-উল-আযহার ছুটি হবে। এমন সিদ্ধান্ত আমাদেরকে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলছে।”
মেহের চণ্ডির উপহার ছাত্রাবাসের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “২৬ তারিখের মধ্যে মেস ছাড়তে আমাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে। তাই আমাদেরকে বাধ্য হয়েই বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়ে যাবে।”
নিউ গর্ভনমেন্ট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আলি আহমেদ তিতাস বলেন, “আমার মেসও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাড়ি চলে যাচ্ছি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, “আমরা শুনেছি, অনেক মেস মালিক মেস ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কোনো সিন্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রাবাস খালি করার সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেন রাজশাহী নগরীর মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি রাজশাহী নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে জানায়, নির্বাচনের সময় ভোটার ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় থাকতে পারবে না। তাই অনেক শিক্ষার্থীদেরকে মেস ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নোটিস করা হয়েছে।”
কোনো মেস মালিককে শিক্ষার্থীদের মেস ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “প্রত্যেক থানা থেকে সংশ্লিষ্ট মেস মালিকদের জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় মেস বর্ডারদের যেন কোনো গেস্ট না থাকে। নির্বাচনী নিরাপত্তার কথা ভেবেই গেস্ট না রাখার নির্দেশেনা দেওয়া হয়েছে।”

Comments

Popular posts from this blog

টাইটানিক জাহাজে যাত্রী সংখ্যা ছিলো ২২৩০ জন ৷ জীবিত উদ্ধার হয়েছিল ৭০৬ জন। ডুবে প্রাণ হারায় মোট ১৫২৪ জন যাত্রী৷

লালমাটিয়া থেকে তুলে নেওয়া পারভেজকে পাওয়া গেল পূর্বাচলে