নির্বাচনে জিততে বিএনপি নিজেই যথেষ্ট: জামায়াত প্রশ্নে ফখরুল

bdnews24

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়াই বিএনপির মেয়র প্রার্থী জিততে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সিলেটে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি ২০ দলকে একসাথে নির্বাচন করানোর জন্য। জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে আছেন, তারা থাকতেই পারেন। তারা এখন পর্যন্ত আমাদের সমর্থন দেননি।”
সিলেটে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি বিজয়ী হতে পারবে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচন একাই করেছে এবং সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জেতার জন্য কারো উপর নির্ভর করতে হয় না, ‘বিএনপি সেলফ সাফিশিয়েন্ট জেতার জন্য’।”
৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। বাকি দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থীকেই ২০ দলীয় জোট সমর্থন দিলেও বিএনপির বড় শরিক জামায়াত সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে।
সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিন সিটিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে এবং গ্রেপ্তারকৃতকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুল।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তাদের ফোন করলে বলেন যে, চেষ্টা করছি, দেখছি। চেষ্টা করার জন্য তো আপনাদের রাখা হয়নি। ... আপনাদেরকে রাখা হয়েছে এই রাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, অবাধ করার জন্য। আপনাদের অবশ্যই কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্যই সংবিধান ও দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, আপনারা সেখানে ব্যর্থ হচ্ছেন।”
তিন সিটিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের, মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি ও সাংসদরা নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেওয়ার, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তারে, ধানের শীষের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
“আমাদের কথা বাদ দেন, একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সুজন কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন যে, কোথাও কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই- এটাই বাস্তবতা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াতে তারা একটা ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে ফেলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন কমেন্টও করেছেন উৎসবের নগরী না হয়ে এটা ত্রাসের নগরীতের পরিণত হয়েছে।
“তিন সিটিতে অহরহ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আজকের পত্রিকারগুলোতেও গ্রেপ্তারের খবর এসেছে। ব্যস, ইলেকশন ইজ ডান। নির্বাচনকে শেষ করে দেওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।”
এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সাংবাদিকদের স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন থাকতে পারে তাহলে জেনেশুনে আপনারা নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন? আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি... জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকতে চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকার পরিবর্তন করে না। যে কারণে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রত্যেকটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যাচ্ছি।”
তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় ‘আগামী সংসদ নির্বাচন যে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না’ তার প্রমাণ মিলেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও হাবিবুল ইসলাম হাবিব এসময় উপস্থিত ছিলেন।
‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হত্যাকাণ্ড’
এর আগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আরেকটি একদলীয় নির্বাচন করতেই সরকার মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবর্হিভুত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
“দেশজুড়ে ক্রসফায়ারের হিড়িক মূলক দেশের জনগোষ্ঠিকেই আতঙ্কিত করা। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মনে ভয় ঢোকানোর জন্য এই উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযানে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে।”
ঝিনাইদহ ও নেত্রকোনার পর তিন দিন আগে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ছাত্রদল নেতা বাদশাকে ‘ক্রসফায়ারে হত্যা’র কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, “এরা কেউ মাদকের সাথে জড়িত ছিলো না।
“আগামী নির্বাচন একতরফা করতে দেশকে ভোটারশূন্য করার জন্যই সরকার ক্রসফায়ারকে নিজেদের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন মনে করছে। আমি দলের পক্ষ থেকে সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক এই মনুষ্যত্বহীন ও অমানবিক নিষ্ঠুর ক্রসফায়ারের কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান উপস্থিত ছিলেন।

Comments

Popular posts from this blog

টাইটানিক জাহাজে যাত্রী সংখ্যা ছিলো ২২৩০ জন ৷ জীবিত উদ্ধার হয়েছিল ৭০৬ জন। ডুবে প্রাণ হারায় মোট ১৫২৪ জন যাত্রী৷

লালমাটিয়া থেকে তুলে নেওয়া পারভেজকে পাওয়া গেল পূর্বাচলে