সৈনিকটির কথা শুনে ভদ্রমহিলা নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়লেন......
একবার এক ভয়াবহ যুদ্ধ শেষে যখন বেঁচে থাকা সৈনিকের বাড়ি ফেরার সময় হলো। তখন এক সৈনিক তার বাড়িতে ফোন করলেন।কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর; সৈনিকের স্ত্রী ফোনটা রিসিভ করলেন।স্ত্রীর কন্ঠ শুনে তিনি খুবই আনন্দের সাথে বললেন - যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা।আমিও বাড়ি ফিরবো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে। স্বামীর মুখে বাড়ি ফেরার খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে লাফিয়ে উঠলেন স্ত্রী। স্ত্রীর উতফুল্ল কন্ঠ শুনে সৈনিকটি বললেন আচ্ছা শোন। আমার এক বন্ধুকে আমি আমার সাথে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই; তোমার তাতে কোন অসুবিধে নেই তো? জবাবে স্ত্রী বললেন না! না! কীসের অসুবিধে? তুমি উনাকে তোমার সাথে করে নিয়ে এসো। এক সাথে দুই বন্ধু মিলে ভালো সময় কাটবে।এবার স্ত্রীর কথার উওরে সৈনিক বললেন আসলে একটা অসুবিধে আছে।যুদ্ধে আমার বন্দুটা খুব বাজেভাবে আহত হয়েছে। শএু্ পক্ষের ছোড়া একটা বোমা ওর গায়ের খুব কাছে পড়ায় ওর বাঁ-হাত আর বাঁ- পাটা কেটে বাদ দিতে হয়েছে।ওর এখন কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।আমরা কি আমাদের সাথেই ওকে সারাজীবনের মত রেখে দিতে পারি। সবটা শুনে সৈনিকের স্ত্রী বললেন আচ্ছা আমরা কি উনাকে অন্য কোথাও রাখতে পারি না? কারন তোমার বন্ধু বলে তুমি হয়তো বুজতে পারছো না।এরকম একজন প্যতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে সত্যিই ভীষণ কষ্টকর।আমাদের নিজেদের জীবন আছে। নিজেদের নানান সমস্যা আছে। সেখানে এরকম একজন পতিবন্ধী মানুষকে ঘরে তুলে আনা মানে শুধু শুধু একটা ঝামেলা আনা তাই আমার মনে হয় তোমার উনাকে হাসপাতালে রেখে;বাড়ি চলে আসাটাই ভালো। কেউ না কেউ ঠিকই উনার একটা ব্যবস্তা করে দিবেন। স্ত্রীর কথা শুনে সৈনিকটি বললেন আচ্ছা। আমি দেখছি কি করা যায় বলে ফোনটি রেখে দিলেন।এরপর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল সৈনিকটি তবু বাড়ি ফিরলো না। সৈনিকের স্ত্রী সব জায়গায় খোঁজ নিতে লাগলেন। কিন্তু কেউ ই সৈনিটির খোঁজ দিতে পারলো না।এভাবে দেখতে দেখতে প্যায় অনেক বছর কেটে গেল।সৈনিকটির স্ত্রীও অন্য একজনকে বিয়ে করে নতুন ভাবে জীবন শুরু করলেন। একদিন কাজের সৃএে ভিনদেশে গিয়ে হঠাৎ একটি চাচে তিনি সেই সৈনিককে দেখতে পেলেন। কিন্তু তিনি এটা দেখে চমকে গেলেন যে তার প্যক্তন স্বামীর বাঁ হাত আর বাঁ পা নেই! আর তিনি একটা হুইলচেয়ারে বসে আছেন। নিজের প্যক্তন স্বামীকে চিনতে পেরে ভদ্রমহিলা দোঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন তাকে এবং জানতে চাইলেন এতো বছর তুমি কোথায় ছিলে? বাড়ি ফিরে যাও নি কেন? তখন সৈনিকটি মৃদু হেসে বললেন তোমার মনে আছে সেই শেষ ফোন কলটার কথা? আমি আসলে দেখতে চেয়েছিলাম' একজন প্যতিবন্ধী মানুষের প্যতি তোমার মনোভাব কেমন। আমি যদি বাড়ি ফিরতাম ' তাহলে হয়তো তুমি সেবা যত্নের কোন এুটি রাখতে না।কিন্তু সারাজীবন মনে মনে আমাকে একটা বোঝা বলেই মনে হতো তোমার। আর আমি চাইনি কারো বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে। তাই সরে গেছি তোমার জীবন থেকে। যাতে তুমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারো।সৈনিকটির কথা শুনে ভদ্রমহিলা নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়লেন।প্যতিবন্ধী মানুষদের কখনোই বোঝা ভাবা উচিত নয়।এই পৃথিবীতে সবারই সমান গুরুত্ব রায়েছে।এমন অনেকে আছেন যারা শারীরিক প্যতুবন্ধীকতা থাকা সও্বেও' অনেক সুস্ত মানুষকে পেছনে ফেলে সাফল্যের শৃঙ্গ জয় করেছেন
Comments
Post a Comment